হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হাসনাবাদ (উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ): আজ শুক্রবার (১৯ জুন ২০২৬) জুমার নামাজের পূর্বে আমরুলগাছা চকপাটলি জামে মসজিদে বিশেষ খুতবা প্রদান করেন বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আসগর আলী গাইন। তাঁর বক্তৃতার মূল প্রতিপাদ্য ছিল-ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর জীবন থেকে ‘আমর বিল মারুফ’ (সৎকাজের আদেশ) ও ‘নাহি আনিল মুনকার’ (অসৎকাজ থেকে নিষেধ)-এর সেই মহান দায়িত্ব, যা ইসলামের ফরজ বিধান হলেও সবার পক্ষে তা পালন সম্ভব নয়।
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা
মাওলানা আসগর আলী গাইন বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.) শুধু এই ফরজের নির্দেশ দেননি, বরং নিজ জীবন দিয়ে তার বাস্তব প্রমাণ রেখে গেছেন। কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (আ.) সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য এবং অসত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য যা করেছেন, তা ইতিহাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি তাঁর অনুসারীদেরও এই পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং বলেন, আজকের মুসলিম সমাজে যখন নৈতিক অধঃপতন ও অন্যায়ের বন্যা বইছে, তখন ইমাম হুসাইন (আ.)-এর এই শিক্ষা আমাদের জন্য পাথেয় হয়ে উঠুক।
ইমাম হুসাইন (আ.) ও ইয়াজিদের মধ্যে পার্থক্য
খুতবায় তিনি ইমাম হুসাইন (আ.) ও ইয়াজিদের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইয়াজিদ ছিলেন নাপাক ও শারাবি-যার চরিত্র ইসলামের মূল্যবোধের পরিপন্থী; অন্যদিকে ইমাম হুসাইন (আ.) হলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র, পাক-পবিত্র ও মর্যাদার অসীম আধার। এমন ব্যক্তিত্ব ইয়াজিদের মতো কাউকে বাইয়াত করতে পারেন না-এটাই ছিল তাঁর ঐতিহাসিক অবস্থানের মূল কারণ। ইসলামের ইতিহাসে ইয়াজিদের নাম জুলুম ও অন্যায়ের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত, আর ইমাম হুসাইন (আ.) সত্য, ন্যায় ও মানবতার প্রতীক হিসেবে অমর হয়ে আছেন।
‘আমর বিল মারুফ’ ও ‘নাহি আনিল মুনকার’-এর গুরুত্ব
মাওলানা আসগর আলী গাইন আরও বলেন, ইসলামে ‘আমর বিল মারুফ’ ও ‘নাহি আনিল মুনকার’-এর গুরুত্ব অপরিসীম। এটি একটি ফরজ বিধান, যা সমাজে সত্য প্রতিষ্ঠা ও অন্যায় দমনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর জীবন দিয়ে এই ফরজের বাস্তব প্রমাণ রেখে গেছেন। তাঁর এই ত্যাগ ও সংগ্রাম আমাদের জন্য চিরন্তন শিক্ষা।
শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া
খুতবা শেষে উপস্থিত মুসল্লিরা গভীর মনোযোগ দিয়ে বক্তব্য শ্রবণ করেন এবং ইমাম হুসাইনের আদর্শে জীবন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা মাওলানা আসগর আলী গাইনের বক্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, এই ধরনের খুতবা সমাজে সচেতনতা তৈরিতে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, মাওলানা আসগর আলী গাইন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একজন প্রখ্যাত আলেম এবং ইসলামি বক্তা। তিনি নিয়মিত বিভিন্ন ইসলামি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়ে থাকেন এবং তাঁর বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে বিবেচিত হয়।
আপনার কমেন্ট